Articles

আইইএলটিএস স্পিকিং টেস্টে ইংরেজি উচ্চারণের গুরুত্ব

ইন্টারনেশনাল ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম বা আইইএলটিএস(IELTS) হল উচ্চ শিক্ষা এবং বিশ্বের যেকোন দেশে অভিবাসনের জন্য ইংরেজি ভাষা উপর নিজের দক্ষতা যাচাই করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। আমাদের দেশে অনেকে উচ্চ শিক্ষার অথবা অন্য যে কোন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করার উদ্দেশ্যে এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। শুধু আমাদের দেশ নয় বিশ্বে ১৪০ টিরও বেশি দেশে প্রায় ১০০০০-এরও বেশি কলেজ, সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আইইএলটিএস পরীক্ষাকে সমর্থন দেয়। 
এই পরীক্ষায় মূলতচারটি বিষয়ের উপর দক্ষতা যাচাই করা হয়। পঠন দক্ষতা(Reading), লেখন দক্ষতা(Writing), মন দিয়ে শোনা(Listening) এবং  কথোপকথনের দক্ষতা(Speaking)। 
আজ আমরা আইইএলটিএস পরীক্ষায় কথোপকথন দক্ষতা যাচাই করতে শব্দ উচ্চারণরে ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবো। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক শুদ্ধ উচ্চারণ আইইএলটিএস-এ কিভাবে ভালো রেজাল্ট এনে দেয় এবং কিভাবে আমরা এর সঠিক চর্চা করতে পারি। 
Photo: estrategiaenventas.co
আইইএলটিএস পরীক্ষায় স্পিকিং টেস্ট হল পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষকের মধ্যে মুখোমুখি সাক্ষাত্কার। পরীক্ষক তিন ধাপে প্রশ্ন করবেন এবং শিক্ষার্থীকে পুরো সময় জুড়ে বিশুদ্ধ ইংরেজি ভাষায় কথোপকথন চালিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্র উচ্চারণ সঠিক হওয়া খুবই জরুরী, কারণ শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণে থাকছে ২৫% নম্বর। পাশাপাশি বাকপটুতা, ইংরেজি অভিধান মানা, ব্যকারণ বিন্যাস এবং শব্দের যথাযথ ব্যবহার জানাও জরুরী।

কিভাবে আইইএলটিএস পরীক্ষায় উচ্চারণের গুনগত মান যাচাই করা হবে? 

আপনার স্পিকিং টেস্টের ফলাফল চারটি দিক বিবেচনা করে হিসাব করা হবে। এক্ষেত্রে আপনার হিসাব অবশ্যই ব্যান্ড ০-৯ এর মধ্যেই থাকবে। আইইএলটিএস ব্যান্ড হল একটি ক্রমমান যা দিয়ে ইংরেজিতে আপনার দক্ষতা কতটুকু তা পরিমাপ করা হয়। যার ব্যান্ড মান যত বেশি হবে তিনি তত বেশি ইংরেজিতে দক্ষ বলে বিবেচিত হবেন। স্পিকিং টেস্ট যাচাই করার জন্য নিচের দক্ষতাগুলো যাচাই করা হয়  
  1. বাকপটুতা এবং সঙ্গতি(২৫%)
  2. আভিধান সম্পর্কিত (২৫%)
  3. ব্যাকরণগত নিয়ম এবং বিশুদ্ধতা(২৫%)
  4. শব্দের উচ্চারণ(২৫%)
এই নম্বর আপনার ইংরেজি বলার দক্ষতা কতটুকু তার মান নির্ধারন করবে। যদি আপনি একেবারেই কথোপোকথন না পারেন তাহলে আপনি সর্বনিম্ন নম্বর শূন্যও পেতে পারেন। তবে পরীক্ষকের সাথে চমৎকারভাবে শব্দ উচ্চারণের ভঙ্গি সর্বোচ্চ নম্বর পেতে সাহায্য করবে। সঠিক উচ্চারনের মাধ্যমে তাকে বোঝাতে হবে যে আপনি ঠিক কি বলতে চান। যদি আপনার কথা বুঝতে তার পক্ষে কোন রকম সমস্যা হয় তাহলে আপনি তুলনামূলক কম নম্বর পাবেন। কারণ আপনার কথা একজন পরীক্ষক বুঝতে পারছে না, তাহলে একজন সাধারন মানুষ কিভাবে আপনার কথা বুঝতে পারবে। মূল কথা হল ইংরেজি ভাষায় শ্রোতার কাছে মনের ভাব যথাযথ ভাবে প্রকাশ কারার ক্ষেত্রে আপনি কতটুকু দক্ষ তা যাচাই করা হবে। 
Photo: udemy.com
আইইএলটিএস পরীক্ষায় চারটি সেকশনের জন্য আলাদা আলাদা ব্যান্ড মান নির্ধারন করা আছে এবং সেই চারটি সেকশনের রেজাল্ট ব্যান্ডগুলো যোগ করে গড় করে মূল রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়। স্পিকিং টেস্টেও আলাদা ব্যান্ড ক্রমমান রয়েছে। শুধু মাত্র স্পিকিং টেস্টের জন্য ০(শূন্য) থেকে ৯(নয়) পর্যন্ত যে ব্যান্ড ক্রমমান আছে, সেখানে কোন ব্যান্ডের জন্য কি কি বৈশিষ্ট্য থাক উচিত তার তা সম্পর্কে ধারনা থাকা জরুরী। নিচের তালিকাটির মাধ্যমে একটু ধারন দিতে চেষ্টা করছি। 
 
ব্যান্ড
উচ্চারণ প্রণালী
-শব্দ সর্বোচ্চ স্পষ্টতা এবং সূক্ষ্মতার সাথে উচ্চারণ
-সর্বত্র সহজে বুঝা যায় এমন শব্দ ব্যবহার 
-কোন রকম প্রচেষ্টা ছাড়াই বক্তার মনের ভাব প্রকাশ পাবে 
-শব্দের সঠিক উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে 
-প্রয়োজনয় অনুরাসে বাক্যের মধ্যে নির্দিষ্ট্য পরিমান বিরতি বজায় রাখা
– সহজ বোধ্য
-ব্যান্ড ৬ এর সকল পোজেটিভ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে, কিন্তু ব্যান্ড ৮ এর সকল পোজেটিভ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে না। 
-শব্দ উচ্চারণে মিশ্রতা লক্ষ্যণীয় 
-কিছু সময়ের জন্য সঠিক উচ্চারণ লক্ষ্যণীয় কিন্তু সব সময়ের জন্য নয় 
-ভুল উচ্চারণ লক্ষ্যণীয়, তারপরেও সাধারন ভাবে বোধগম্য 
-ব্যান্ড ৪ এর সকল পোজেটিভ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে, কিন্তু ব্যান্ড ৬ এর সকল পোজেটিভ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে না।  
-উচ্চারণের সীমাবধ্যতা 
-শুদ্ধ উচ্চারণের চেষ্টা করা কিন্তু ঘন ঘন  অ্যা…ঊম… শব্দ করা
-ভুল উচ্চারণ ঘন ঘন ঘটবে এবং শ্রোতার পক্ষে বুঝা কঠিন হবে 
-ব্যান্ড২ এর কিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে কিন্তু পুরোটা নয়। ব্যান্ড ৪ এর কিছু পোজেটিভ বৈশিষ্ট্য থাকবে। 
-প্রায় অবোধগম্য শব্দের ব্যবহার 

 

কি, উপরের বিষয়গুলো দেখে কি দুশ্চিন্তা হচ্ছে? উচ্চারণে ভালো রেজাল্ট আনতে পারবেন না? 
তাহলে আপনার জন্য বাকি তিনটি বিষয় ভালো রেজাল্ট করতে হবে। যেন চারটি বিষয় মিলে গড় নম্বর সন্তোষজনক হয়। এজন্য ব্যকারণ মেনে অনর্গল ইরেজিতে কথা বলার অনুশীলন করতে হবে। যদি কখনো এমন হয় যে, কথা বলতে বলতে কোন একটি নির্দিষ্ট্য শব্দে আটকে পড়েছেন তখন ঐ শব্দটি বলার জন্য বার বার চেষ্টা করবেন না। এই শব্দের পরিবর্তে ভিন্ন আরেকটি শব্দ বলার চেষ্টা করবেন। 

আমি কিভাবে আমার শুদ্ধ উচ্চারণের চর্চা করতে পারি?

ইংরেজি শব্দের মূলত দুটি কারণে উচ্চারণের ভিন্নতা দেখার যায়। 
  • এটি আমাদের জন্মগত কোন ভাষা নয়ঃ 

আমাদের বাংলা ভাষা উচ্চারণের ধরন ইংরেজদের ইংরেজি ভাষা থেকে আলাদা। তাই আমরা যখন কোন ইংরেজি শব্দ উচ্চারণ করি তখন স্বভাবতই নিজের ভাষার মত করে উচ্চারণ করি। এতে আসল উচ্চারণে ব্যাঘাত ঘটে। কখনো আবার একই শব্দ বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উচ্চারিত হয়। একটি উদারহরন দেখুন “th” এর উচ্চারণে ভাষাগত ভিন্নতা(the এবং think) আছে। ইংরেজি ভাষাভাষীদের কাছে কথোপকথন বোঝাটা কষ্টকর হয়ে উঠে যখন f, v, s, z, d মত অক্ষরগুলো ভিন্ন ভাবে উচ্চারিণ করি। কারণ শব্দেরএকটু খানি ভিন্ন উচ্চারণ ভিন্ন অর্থ বহন করে। তাই অন্যের কাছে নিজের মনের ভাব সঠিক ভাবে প্রকাশ করার জন্য শব্দের সঠিক উচ্চারণের দিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
  • উচ্চারণের মশ্রতা 

কিছু ভাষায় r এবং l এর উচ্চারণের সময় অদলবদল হয়ে যায়। সেই সব ভাষার লোকেদের ইংরেজি ভাষার সাথে মানিয়ে নেওয়াটা কষ্টকর। সমান্যতম উচ্চারণ এদিক ওদিক হলে ভিন্ন অর্থ দাড়ায়। অনেক সময় দেখা যায় কেউ fly কে fry মত করে উচ্চারণ করে। অনুরুপ play কে উচ্চারণ করে pray এরকম মিশ্র উচ্চারণের শুনে আপনার সঙ্গির পক্ষে আপনার কথা বুঝা অনেক কঠিন হয়ে যাবে। 

 

Photo: wikiHow.com
আমাদের পরিচিত এমন অনেকেই আছে যারা ভালো ইংরেজি বুঝেন। অথবা অন্য ভাষার কোন ব্যাক্তি যার সাথে কথা বলতে হলে একমাত্র ইংরেজিতেই কথা বলতে হবে, তাদের সাথে কথোপকথন করে নিজের ইংরেজি বলার দক্ষতা বাড়াতে পারেন। যদি এমন হয় তারা আপনার কথা বুঝতেছে কিন্তু একটু সন্দিহান অথবা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে তাহলে ঠিক কোন কোন শব্দ তারা বুঝতেছেন না তা নোট করেন এবং সেই শব্দগুলোর সঠিক ভাবে উচ্চারণ করার চেষ্ট করুন। 
যদি আপনি কথোপকথনের জন্য একন্তই এরকম কোন সহযোগী না পান তাহলে ইন্টারনেট আপনার জন্য বড় একটি রিসোর্স। অনলাইনেও আপনি অনেক ওয়েবসাইট পাবেন যারা বিভিন্ন ভাষাভাষীদের জন্য সঠিক উচ্চারণের প্রশিক্ষন দিয়ে থাকে। সার্চ বারে এই(difficult sounds of English for ______ speaker) কিওয়ার্ড লিখুন এবং ফাকা জায়গাটি আপনার নিজস্ব ভাষার নাম দিয়ে পূরন করুন। তারপর সার্চ রেজাল্টে কিছু সাইট পাবেন যারা আপনার ভাষার জন্য ইংরেজি শুদ্ধ উচ্চারণের প্রশিক্ষন দিয়ে থাকে। 
Photo: mrkielts.com
এভাবে অনুশীলন করতে থাকলে একসময় নিজের সমস্যাগুলো সেরে যাবে। বর্তমানে ইউটিউব-এ ইংরেজি শিখার জন্য অনেক ভালো মানের ভিডিও আছে। এখান থেকে শব্দের উচ্চারণের স্পষ্ট ধারনা পাবেন। যেমন: কোন শব্দ উচ্চারণের জন্য জিহ্বা ব্যবহার কেমন হবে, কখন কেমন ভাবে গলার স্বরযন্ত্র ব্যবহার করতে হবে ইত্যাদি বিষয় ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে সুন্দর করে বুঝিয়ে দেওয়া আছে। একজন ইংরেজি ভাষার লোক যেন আপনার কথা সহজেই বুঝতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইউটিউব থেকে নিতে পারেন। 

Source link

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

Copyright © 2018 Do Magazine.

To Top