Articles

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কিভাবে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন

দেশে উদ্যোক্তার তেমন একটা অভাব নেই। কিন্তু সব উদ্যোক্তার পরিকল্পনা কি বাস্তবিক রূপ পায়? উদ্যোক্তা কি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজে পায়? বেশীরভাগ সময়েই পায় না। তাই উদ্যোক্তাদের মনোবল হারিয়ে যায় ফলে নতুন ভাবে কোনো উদ্যম না পেয়ে অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যায় প্রতিভা। একজন সফল উদ্যোক্তা কেবল তিনি নন যার কাছে রয়েছে অভূতপূর্ব পরিকল্পনা। একজন সফল উদ্যোক্তা তিনি যার কাছে পরিকল্পনার পাশাপাশি সেই পরিকল্পনা উপস্থাপন করার মত ক্ষমতা বা দক্ষতা রয়েছে। শুধুমাত্র পরিকল্পনা বানিয়ে তা কাগজে লিখে বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠালেই কাজ শেষ নয়।
অনেক নতুন উদ্যোক্তারা মনে করে থাকেন তাদের পরিকল্পনা কোনো বড় কোম্পানিতে পাঠানোর পরেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ কোম্পানি বহন করবে। দুর্ভাগ্যবশত, বাস্তবতা এমন নয়। “গত ১৫ বছর ধরে আমার কোম্পানি, উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনাকে উন্নত রূপ দান করেছে” বলেন ডেইভ লেভিনেস্কি। তিনি আরো বলেছেন, উদ্যোক্তাদের উচিত নয় সরাসরি তাদের পরিকল্পনা, কোনো বিনিয়োগকারীর কাছে পাঠানো। কৌশলটা পরিকল্পনা পাঠানো নয়, সফল ভাবে উদ্দ্যেশ্যসাধনের জন্য পরিকল্পনাকে তৈরী করা। কেন পরিকল্পনাকে পরিশোধিত করতে হবে? তার কারণ,

 

১. আপনার ব্যবসায়িক পরিকল্পনার লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে সকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না যেতে পারে

একজন উদ্যোক্তার পরিকল্পনা, যতই সুন্দর এবং যতই ভাল হোক না কেন কখনোই তা নিখুদ নয়। ধরে নেই, আপনার পরিকল্পনা বা আপনার লিখিত কাগজপত্রে একজন বিনিয়োগকারীর সকল প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আপনার কাগজপত্রে যোগ হবে আরো অতিরিক্ত ১০০ পাতা যা কোনো বিনিয়োগকারী পড়তে রাজী হবেন না বা কেবল সময় অপচয় বলে প্রত্যাখ্যান করবেন। যেকোনো লিখিত প্রস্তাবনায় ব্যাখ্যা করতে গেলেই তা হবে দীর্ঘ এবং তখনই বিনিয়োগকারী শুধুমাত্র নিজের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আপনার এবং আপনার পরিকল্পনার মূল্যনির্ণায়ন করবেন। তাই প্রয়োজন একটি গোছানো এবং স্বল্পদীর্ঘ ব্যাখ্যা। একজন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর কাছে আপনার প্রথম চিঠিতে থাকবে সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও কিছু তথ্য আপনার কোম্পানি সম্পর্কে। এক পাতায় সারসংক্ষেপে লিখে বক্তব্য শেষ করবেন। এতে অবশ্যই পয়েন্ট আকারে আপনার কোম্পানির কাজ, কেন এটি অনন্য এবং সফল এই সম্পর্কে এক লাইনে মন্তব্য করা থাকবে। এই ধরণের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে একজন বিনিয়োগকারী আপনার উদ্যোগ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা তো পাবেই সে সাথে খুঁজে পাবে আগ্রহ।

 

২. বিনিয়োগকারীকে সময় বিনিয়োগে আগ্রহী করুন

নিজের কোম্পানি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণি দেওয়ার পর পরবর্তী লক্ষ্য বিনিয়োগকারীর সাথে একটি সাক্ষাতের আয়োজন করা। মনে রাখতে হবে একজন বিনিয়োগকারীর দুর্লভ সম্পদ দুইটি, তাদের সময় ও তাদের টাকা। শুরুটা হোক তাদের সময় নিয়ে। শুধুমাত্র কোম্পানি নিয়ে নয় ব্যাক্তি হিসেবে উদ্যোক্তাকে পছন্দ হওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাক্ষাতের সময় ঠিক করতে হবে এবং সম্পূর্ন সময়টাকেই কাজে লাগাতে হবে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আর বিনিয়োগকারীর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে। সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অবশ্যই কাগজপত্র বা লিখিত প্রস্তাবনায় উত্তর দেওয়া থেকে সহজ এবং কার্জকর। সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে আচার-ব্যবহারসহ কথার টোন শুনে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া যায় যা লিখিত প্রস্তাবনায় সম্ভব হয় না।

সরাসরি উপস্থাপনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর বিশ্বাস অর্জন করুন ; ছবিসূত্রঃ dianegottsman.com

৩. পরিকল্পনাটি বিনিয়োগকারীর কাছে পাঠানো

বিনিয়োগকারীর সাথে দেখা করার পরেই আপনি অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাবেন তার উত্তর নিয়ে। এমনকি তারা আপনার পরিকল্পনায় আগ্রহী হলে নিজেরাই লিখিতভাবে পরিকল্পনাটি চাইবেন। এখনই সময় আপনার পরিকল্পনাটি তাদের কাছে পেশ করার। পরিকল্পনা লিখিতভাবে পেশ করাটা অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা এই পর্যায়ে এসে। এই প্রস্তাবনা পেয়ে বিনিয়োগকারী নিশ্চিত হন তিনি টাকা বিনিয়োগ করবেন আপনার পরিকল্পনায়। যদিও আগেই বলেছি এটি কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিকতা কিন্তু তাতেও এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ন বিষয় আছে যা না হলেই নয়। মনে রাখতে হবে এই লিখিত প্রস্তাবনাই বিনিয়োগকারীকে বিশ্বাস দান করবে আপনার পরিকল্পনার জন্য যা আপনার নিজের ব্যবসার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই,

  • বিনিয়োগকারীরকে পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রাথমিক ভাবে তথ্য দিতে হবে
  • কোম্পানি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা
  • আপনার ব্যাক্তিগত সাক্ষাত ও উপস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ গুলো সম্পর্কে বর্ণনা
  • সে সকল সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর যা বিনিয়োগকারী প্রক্রিয়া চলাকালীন করতে পারেন
লিখিত প্রস্তাবনায় থাকবে স্বল্পদীর্ঘ কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ; ছবিসূত্রঃ city-press.news24.com

সবশেষে বিনিয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। সম্পূর্ন প্রক্রিয়াকে আমরা তুলনা করতে পারি একটি গাড়ি বিক্রির সাথে। একটি গাড়ি বিক্রির প্রথম ধাপ গাড়ি বিক্রি সম্পর্কে জানান দেওয়া বানিজ্যিক ভাবে, ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য। এটি আপনার পাঠানো এক পাতার সংক্ষিপ্ত বিবরণির মতই যা দেখেই বিনিয়োগকারীর দৃষ্টি আকর্ষিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আগত ক্রেতাদের গাড়ির টেস্ট ড্রাইভ বা গাড়ি চালিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করা। আপনার ব্যাক্তিগত ভাবে গিয়ে সাক্ষাৎ করা এবং উপস্থাপনার মতই এই টেস্ট ড্রাইভ। সবশেষে আগ্রহী ক্রেতার বেশ কিছু প্রশ্ন থাকবে। এসকল প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিক্রেতা তার হাতে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী দেওয়া বই ধরিয়ে দেন যাতে গাড়ি সম্পর্কিত তথ্য, কেন এই গাড়ি কেনা উচিত এ সম্পর্কে লেখা থাকে। আপনার সর্বশেষ ধাপটিও ঠিক এমনি, একটি লিখিত প্রস্তাবনা যাতে থাকবে পরিকল্পনা সম্পর্কিত সকল তথ্য। পরিকল্পনা তৈরী ঠিক যতটা কঠিন সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে পরিকল্পনার জন্য মূলধন নিশ্চিত করা ততটাই কঠিন। কিন্তু সঠিক ভাবে আগানো হলে তা খুব দ্রুত সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে দেখা একটি সুন্দর পরিকল্পনা শুধুমাত্র গোছানো উপস্থাপনার অভাবে হারিয়ে যায় বা প্রত্যাখান করা হয়। সকল উদ্যোক্তার উচিত পরিকল্পনা তৈরীর পাশাপাশি তা বিনিয়োগকারীদের সামনে উপস্থাপনের দিকেও নজর দেওয়া এতে তাদের শ্রম বৃথা যাবে না।

Source link

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

Copyright © 2018 Do Magazine.

To Top