Articles

প্রথম ম্যানেজার হিসেবে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

নতুন ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং আনন্দের ঘটনা। তাই স্বভাবতই নতুন ব্যবস্থাপকদের মধ্যে এক অপ্রতিরোধ্য ইতিবাচক মনোভাব কাজ করে।

ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আপনাকে সাধারণ কর্মীর চেয়ে বিশেষ কিছু দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যে দক্ষতার কল্যাণে আপনি ব্যক্তিগত কাজের চেয়ে দলের অন্যান্য কর্মীর অর্জনের উপর বেশি মনোযোগী হবেন। বিচক্ষণতার সাথে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলে নতুন ব্যবস্থাপক হিসেবে আপনি প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে এবং কৌশলগতভাবে দলকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।

আধুনিক যুগের ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে আপনাকে অনেক কিছু ঢেলে সাজাতে হবে; Source: Iris

কিন্তু গবেষণা বলছে, সিংহভাগ নতুন ব্যবস্থাপকের কর্মদক্ষতা এবং কর্মতৎপরতা অত্যন্ত হতাশাজনক। সাম্প্রতিক এক জরিপে অংশ নেওয়া নতুন ব্যবস্থাপকদের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। শুধু যথাযথ প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভাবে তরুণ ব্যবস্থাপকরা নতুন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিক ভুল করে। যা সামগ্রিকভাবে তার কোম্পানির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কিন্তু আপনি সচেতন হলে নতুন ব্যবস্থাপক হিসেবে ছোট-বড় এমন অসংখ্য ভুল এড়িয়ে চলতে পারেন। আজকের নিবন্ধে নতুন ব্যবস্থাপকদের এমন কিছু ভুল নিয়ে আলোচনা করা হলো।

কাজ অর্পণ করা

ব্যবস্থাপক বা পরিচালক পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার সাথে সাথে আপনার উপর বাড়তি কিছু দায়িত্ব অর্পিত হয়। আপনি এখন আর সাধারণ কর্মীর মতো দৈনন্দিন নিজের কাজ সম্পন্ন করে বসে থাকতে পারেন না। আপনার টিমের সাফল্য বা ব্যর্থতার দায়িত্ব আপনার। সুতরাং টিম যথাযথভাবে কাজ করছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্বও আপনার।

নতুন ব্যবস্থাপক হিসেবে সফল হতে হলে সাধারণ কর্মীদের উপর অর্পণ করে বসে থাকবেন না, সব সময় কাজ তদারকি করবেন; Source: Buji Business

অনেক তরুণ ব্যবস্থাপক মনে করে প্রত্যেক কর্মীর নিজ নিজ দায়িত্ব আছে, এবং প্রত্যেকে নিশ্চয়ই তার কাজ যথাযথভাবে পালন করবে। সুতরাং ব্যবস্থাপক হিসেবে তার কোনো বাড়তি দায়িত্ব নেই। ভুলে গেলে চলবে না, সব কর্মীর কর্মদক্ষতা এবং পারদর্শিতা সমান হয় না। তাছাড়া আপনি কোনো বিষয়ে যেমন ধারণা পোষণ করেন, অন্য কর্মীরা তা নাও ভাবতে পারে।

তাই অন্যান্য কর্মীদের উপর দায়িত্ব অর্পণ করে বসে থাকবেন না। আপনার কাজ সব সময় টিমের সার্বিক খোঁজ-খবর রাখা, সব কাজ তদারকি করা, কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া, এবং সব সময় তাদের কাজে সহযোগিতা করা।

বিস্তারিত বিষয় নিয়ে ভাবা

কর্মীদের কাছ থেকে সেরা কাজ আদায় করতে হলে সব সমস্যা বা বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করা বন্ধ করতে হবে। যদিও গবেষণা বলছে স্বায়ত্তশাসন বা ঊর্ধ্বতনদের নিয়ন্ত্রণ সাধারণ কর্মীদের সুখী রাখে। কিন্তু এই নিয়ন্ত্রণ কতখানি?

ব্যবস্থাপক হিসেবে প্রতিটি প্রকল্পের খুঁটিনাটি সকল বিষয়ে খোঁজ রাখা আপনার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। আপনি যদি এভাবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তবে অচিরেই আপনি প্রতিষ্ঠান বড় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে ছোট ছোট বিষয়ের ব্যবস্থাপকে পরিণত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে আপনার কোম্পানি বা প্রকল্পের ব্যর্থতার কারণ হতে পারে।

সুতরাং খুঁটিনাটি বিষয়ের খোঁজ রাখার পরিবর্তে কোম্পানির বড় লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সামনে রেখে কর্মীদের পরিচালনা করুন। কর্মীদের সবসময় অর্থপূর্ণ কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখুন, যা সরাসরি কোম্পানির লক্ষ্য পূরণ করে এবং টিমের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত করে।

কেন? প্রশ্নটি করতে ভুলবেন না

অধিকাংশ তরুণ ব্যবস্থাপক তাদের পূর্বসূরীদের অনুকরণ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু বিষয়কে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই মেনে নেয়। আধুনিক যুগের ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে আপনাকে এই ধারণা ত্যাগ করতে হবে।

যেকোন সিদ্ধান্ত বা প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে কর্মীদের কাছে এর উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন করুন; Source: Shutterstock

মনে রাখা প্রয়োজন, আগে কাজটি নিয়মিত করা হয়েছে বলে বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও করে যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সময়ের সাথে সাথে সবকিছু পরিবর্তিত হয়। সুতরাং সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত পরিস্থিতির উপযুক্ত হতে হবে।

তাই যেকোনো প্রকল্প বা কাজ সামনে এলে, কেন আমরা কাজটি করব, এই প্রশ্ন করতে লজ্জিত হবেন না। আপনার কেনোর উত্তরে, আমরা সর্বদা করে থাকি তাই করতে হবে, সুলভ উত্তর এলে বুঝতে হবে আপনার টিমের দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি পরিবর্তনের সময় হয়েছে।

সুতরাং প্রতিবার নতুন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে প্রশ্ন করুন কাজটি প্রয়োজনীয় কিনা? এর উপযোগিতা কি? কোম্পানির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে এর চেয়ে অভিনব কোনো উপায় আছে কিনা?

দ্রুত বড় ধরনের পরিবর্তন

নতুন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে কর্মীদের প্রশ্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। সাথে সাথে সময়ের দাবি মেটাতে কোম্পানি পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনাও প্রয়োজনীয়। কিন্তু নিজেকে জাহির করতে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন করতে মরিয়া হয়ে উঠবেন না।

বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পূর্বে সার্বিক পরিস্থিতি নিজে অনুকূলে আনার চেষ্টা করুন; Source: Moberi

রাতারাতি আধুনিকায়ন করা এবং কর্মপদ্ধতি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত আপনার টিমকে বড় ধরণের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ কীভাবে সম্পন্ন হয়, তা পরিবর্তন করার আগে আপনার কর্মীদের লক্ষ্য এবং সামগ্রিক সাংগঠনিক সংস্কৃতি বুঝতে সময় নিন।

কর্মীদের সাথে বিভিন্ন সময়ে কথোপকথন, মিটিং, গবেষণা, এবং আলোচনার ভিত্তিতে ধীরে ধীরে কোম্পানির বিভিন্ন বিষয়ে আধুনিকায়ন এবং পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। যেন সাধারণ কর্মীরা সময় নিয়ে আপনার ধ্যান ধারণার সাথে নিজেদের কর্মদক্ষতার সমন্বয় করতে পারে।

জটিল বিষয়ের আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত

জটিল বিষয়ের আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলা অনেকটা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করার মতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীরা প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিন ঘণ্টা ব্যয় করেন নিজেদের মধ্যকার জটিল বিষয় এবং দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য।

কোম্পানির জটিল এবং দ্বান্দ্বিক বিষয় এড়িয়ে না গিয়ে কর্মীদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করুন; Source: Shutterstock

নিশ্চয়ই ব্যবস্থাপক হিসেবে আপনিও সুন্দর কর্মপরিবেশ আশা করেন? তাই জটিল এবং দ্বান্দ্বিক বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কখনো এড়িয়ে যাবেন না।

ভুলে যাবেন না, আপনার সিদ্ধান্ত এবং কর্মীদের সন্তুষ্ট করার কৌশল দলের কার্যকারিতা প্রভাবিত করে। তাই কর্মীদের সমস্যা সমাধান এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ব্যাপারে কৌশলী হতে হবে। নিজের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সবাইকে এমন ভাবে কাজে লাগাতে হবে যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে টিমের এবং কোম্পানির জন্য কাজ করে।

Feature Image: Buji Business

The post প্রথম ম্যানেজার হিসেবে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন appeared first on Youth Carnival.

The post প্রথম ম্যানেজার হিসেবে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন appeared first on Youth Carnival.

Source link

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

Copyright © 2018 Do Magazine.

To Top