Articles

যে ৬ টি কারণে ম্যাকের পরিবর্তে উইন্ডোজ কম্পিউটার ব্যবহার করবেন

অ্যাপল বর্তমানে বিশ্বের সেরা ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি। এদের সবগুলো পণ্যই উন্নত মানের এবং ব্যয়বহুল। অ্যাপেল যে পিসি তৈরী করে সেগুলো দেখতেও অসম্ভব রকমের সুন্দর দেখায়। এরা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত। ম্যাকের যে কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ গুলো আছে তাদের কর্মদক্ষতা বিশ্বে আলোড়ন তৈরি করেছে।
কিন্তু ম্যাক সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। বিশেষ করে যখন এদের দামের কথা আসে, অনেকের ইচ্ছা থাকা সত্তেও দামের জন্য কিনতে পারেন না। তা ছাড়া যারা নিজের কম্পিউটারকে নিজের মত করে চালাতে চান এবং কাস্টমাইজ করতে চান তাদের জন্য ম্যাক একান্তই অপ্রয়োজনীয়। এছাড়াও ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের চাহিদা কমে যাওয়ার আরো কিছু কারণ আছে। এখন আমরা ম্যাক ব্যবহার না করার এবং উইন্ডোজ কম্পিউটার ব্যবহারের কিছু কারণ উল্লেখ করবো। 

১. ম্যাক-এর তুলনায় উইন্ডোজ কম্পিউটার সাশ্রয়ই

একটি কম্পিউটার ক্রয় করার সময় সবচেয়ে প্রথমেই যে বিষয়টি আমাদের বিবেচনয় আসে সেটি হল কম্পিউটারটির দাম কেমন। যদি সেটি আমাদের ক্রয়সীমার মধ্যে হয় তবেই কিনতে পারবো। খেয়াল করে দেখুন, যখন আপনি সাধারন কনফিগারেশনের একটি ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত কম্পিউটার কিনতে যাবেন তখন আপনাকে কমপক্ষে ৫০০ ডলার গুনতে হবে। অপর দিকে সুপার বেসিক একটি উইন্ডোজ কম্পিউটার পেতে আপনাকে খরচ করতে হবে মাত্র ৩০০ ডলার। উইন্ডোজ ব্যবহার করলে অনেক কম খরচ করেই ভালোমানের কম্পিউটার পাওয়া যাচ্ছে।
Photo: softonic.com
ল্যাপটপের ক্ষেত্রেও সেই একই কথা। এখানেও ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের দাম আকাশ চুম্মি। কিছু সহজ কাজ করা যায় এমন একটি মডেল ম্যাকবুক অ্যায়ার(MacBook Air) কিনতেও খরচ পড়বে যাবে ১০০০ ডলার, যেটা অনেকের ক্রয়সীমার মধ্যে থাকেনা। আবার ৬০০ ডলারের মধ্যে চাইলেই আপনি ভালো কনফিগারেশনের একটি উইন্ডোজ অপারেটিং ল্যাপটপ কিনে নিতে পারছেন। 
আই ম্যাক দেখতে লোভনীয় এবং উচ্চ নিরাপত্তা দিলেও বেশি দামের কারণে সাধারন ইউজারদের মধ্যে এর চাহিদা দিন দিন কমতেছে। তবে হ্যাঁ, যারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত তারা ম্যাক ওএস অথবা লিনাক্স ব্যবহার করতে পারেন। 

২. উইন্ডোজে ভিন্ন ব্রান্ডের কম্পিউটার বাছাই করার সুযোগ

প্রতিযোগিতামুলক যুগে কম্পিউটার প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন কম্পিউটার বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে। কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ পরিমান সুবিধা দিয়ে তাদের পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী করছে।
বিশ্বে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান অ্যাপেল যে শুধু মাত্র ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের কম্পিউটার তৈরী করে। প্রতিষ্ঠানের সংখা কম হওয়ায় ম্যাকের ভিন্নতার পরিমানও কম। যখন আপনার পছন্দের কম্পিউটার বাছাই করতে যাবেন তখন আপনি খুব অল্প সংখ্যাক কম্পিউটারের মধ্য হতে বাছাই করতে পারবেন। এতে আপনার কম্পিউটার পছন্দ করা সহজ হয়ে যাবে, কিন্তু আপনার মনের মত কনফিগারেশনের পাওয়ার সম্ভবনা কমে যাবে। অপর দিকে উইন্ডোজ আপারেটিং সিস্টেম নির্ভর কম্পিউটার তৈরী করে এমন ভালো মানের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান বাজারে আছে। যেমন: এইচপি(HP), লেনোভো(Lenovo),  এ্যাসার(Acer), তোশিবা(Toshiba),  ডেল(Dell), সোনি(Sony), আসুস(ASUS)এই ব্র্যান্ড গুলো বিভিন্ন গুণমান সম্পন্ন ভিন্ন ভিন্ন মডেলের কম্পিউটার তৈরী করে এবং ব্যবহারকারীর চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। 
Photo: teknokona.com
ম্যাকের প্রসেসর এবং র‍্যাম দুটা একসাথে পছন্দ করা কঠিন কাজ, যেমন আপনি চান কম্পিউটারের কাজ করার ক্ষমতা অনেক বেশি হোক এবং এটি যাতে সহজেই চালানো যায়। এই অপারেটিং সিস্টেমে এমন একটি কম্পিউটার আপনি পছন্দ করেছেন যেটির র‍্যাম অথবা প্রসেসর আরেকটু উন্নত হলে ভালো হতো, কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানে মডেলের সংখা কম। ম্যাক ওএস অন্য কোন ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান না থাকায় ব্যবহারকারীদের বাধ্য হয়েই অন্য ব্র্যান্ডে খোঁজ করত হয়। 
হ্যাঁ, ম্যাকে ছবি ও ভিড়িও ইডিটরের মত যে উচ্চ মানের সফটওয়্যার গুলো বাজারে এনেছে তা প্রফেশনালদের চাহিদার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। কিন্তু উইন্ডোজ কম্পিউটার প্রফেশনালদের জন্য ম্যাকের চেয়ে আরো বেশি পরিমানে উপযুক্ত এবং যুগোপযোগী  সফটওয়্যারকে অনুমোদন দেয়। তাহলে বুঝতেই পারছেন উইন্ডোজে নিজের ইচ্ছা মত র‍্যাম, প্রসেসর, হার্ড ডিস্ক ও অনান্য সফটওয়্যার বাছাই করে ক্রয় করা যায়, কিন্তু ম্যাকে তা করার সুযোগ কম। 

৩. উইন্ডোজ কম্পিউটার ও ল্যাপটপের যন্ত্রাংশ পরিবর্তনযোগ্য 

উইন্ডোজের পিসি ও ল্যাপটপের তুলনায় ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে অনেক কম কাস্টমাইজ করার সুযোগ রয়েছে। অ্যাপলের  কম্পিউটার গুলোতে যে আদর্শ মানের হার্ডওয়্যার রয়েছে সেগুলো  উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং একারনেই অনেকে ম্যাক কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারকরী কোন যন্ত্রাংশই পরিবর্তন করতে চায় না। কিন্তু অনেকের কাছে ম্যাকের সীমিত সুবিধা পছন্দ নয়, তারা আরো আপডেট যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে চায়, আর তখনই ঝামেলায় পড়তে হয়। আবার যদি নিজের মত করে কম্পিউটারের পার্টস গুলো সাজাতে চান তাহলে ম্যাকের তুলনায় উইন্ডোজে বেশি সন্তোষজনক হবে। 
Photo: windowscentral.com
আপনি নিজে নিজেই একটি “হ্যাকিনটোশ” কম্পিউটার তৈরি করতে পারেন কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনি যে যন্ত্রাংশ গুলো ব্যবহার করবেন তার সীমাবদ্ধ রয়েছে। একারনে ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে কোন যন্ত্রাংশ আপডেট এবং নিয়ন্ত্রন করতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। তাছাড়া ম্যাকে কোন সমস্যা হলে তা মেরামত করা উইন্ডোজের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল।

৪. ভিডিও গেম খেলতে উইন্ডোজ সেরা

যদি কেউ কম্পিউটারে ভিডিও গেম খেলতে বেশি পছন্দ করেন তবে তিনি অবশ্যাই উইন্ডোজ কম্পিউটার কিনবেন। খুব অল্প পরিমান কিছু ভিডিও গেমস আছে যেগুলো ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে চালানো যায়। কিন্তু ম্যাকে উচ্চ ক্ষমতার গ্রাফিক্স গেম খুব অল্প সংখ্যাক।
Photo: techradar.com

 

অপর দিকে উইন্ডোজ কম্পিউটার বিক্রেতা কোম্পানিরা গেমারদের জন্য আলাদা পিসি নির্মান করেন। যেগুলো উচ্চ মানের প্রসেসর, সর্বোচ্চ পরিমান ডিডিআর৪(DDR4) মেমরির জায়গা এবং হার্ড ড্রাইভ গুলোর একত্রে তৈরী করা। তাহলে গেমার উইন্ডোজ পিসি ছাড়া অন্য কিছুতে কেন যাবে? 

৫. অধিকাংশ উইন্ডোজ ল্যাপটপে কমন পোর্ট ব্যবহৃত হয়

অ্যাপলের সর্বশেষ আবিষ্কার ম্যাকবুক প্রো(MacBook Pro) এই ডিভাইসে যে পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে সে গুলো ইউএসবি-সি। মানে যে সমস্ত মনিটরে এইচডিএমআই(HDMI), এসডি কার্ড(SD cards) ব্যবহার করা হয়েছে সে সব মনিটরের সাথে ইউএসবি-সি এডাপটার ছাড়া সংযোগ করতে পারবেন না। 
তবে বর্তমান বিশ্বে, ইউএসবি-সি এডাপটার ব্যবহার করে অন্য ইউএসবি-এর সাথে সংযোগ করাটা খুবই হতাশাজনক একটি ব্যাপার। কেউ যদি কোথাও বেড়াতে গিয়ে এডাপটারটি হারিয়ে ফেলে অথবা ভুল করে বাড়িতে ফেলে আসে, তবে তাকে আনুষঙ্গিক ডিভাইসগুলোর সাথে সংযোগ ঘটানোর জন্য আরেকটি নতুন এডাপটার কিনে নিতে হবে। বুঝতেই পারছেন এটি একটি বিরক্তিকর অতিরিক্ত খরচ।
Photo: allegro.pl
সত্যি বলতে আপনার কম্পিউটারের সাথে অনান্য ডিভাইস সংযুক্ত করার জন্য ইউএসবি- সি পোর্ট একটি বিবর্তন নিয়ে এসেছে। ইউএসবি-সি(USB-C) এর প্লাগ এবং পোর্ট থান্ডারবোল্ট ৩(ThunderBolt 3) কে সমর্থন করে। যেটি অনেকগুলো পোর্টের পরিবর্তে একটি মাত্র পোর্ট মাধ্যমে চার্জ করা, মনিটর এবং অনান্য ডিভাইসের সাথে সংযোগ করা যায়। এবং পুর্বের যে ইউএসবি পোর্টগুলো ছিল তার চেয়ে অনেক দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে। পরবর্তি ডিভাইজ গুলোতে ইউএসবি-সি পোর্ট বেশি ব্যবহার হবে হলে ধারনা করা হচ্ছে।   

৬. উইন্ডোজ পিসিগুলোতে ঘন ঘন আপডেট আসে 

ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে ম্যাক প্রো(Mac Pro) এর মত কম্পিউটারগুলো ২০১৩ সাল থেকে আর আপডেট করা হয়নি। এখন যিনি এটি ব্যবহার করছেন তিনি চাইলেই আপডেট করে নিতে পারবেন না। তাকে আরেকটি কিনতে হবে এবং সেটা হবে ব্যয়বহুল। 
অন্য দিকে উইন্ডোজের প্রতিনিয়ত আপডেট হয় এবং সহজলভ্য। সবচেয় ব্যবহৃত একটি সফটওয়্যার মাইক্রোসফটের ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার-পএন্ট এখানে পাওয়া যাবে। উইন্ডোজ স্টোর ইতিমধ্যে ৫০,০০০ এর বেশি অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। যেখানে ম্যাকে ১৪,০০০ এর কম। 
Photo: windowslatest.com
উপরে আলোচনা থেকে এখন নিজেই নির্বাচন করতে পারবেন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম আপনি কেন ব্যবহার করবেন। যেহেতু সকল দিক বিবেচনা করে একটি কম্পিউটার কিনবেন, সেহতু ভালো কম্পিউটার কিনবেন। তবে উচ্চমানের নিরাপত্তা জন্য ম্যাক ব্যবহার করতে পারেন। 

Source link

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

Copyright © 2018 Do Magazine.

To Top